সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

চঞ্চল সাহাঃ কলাপাড়ায় এক শ্রেনীর প্রতারক চক্র বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধিভাতা সহ সরকারী প্রনোদনার টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে গ্রাহকদের মোব্ইাল ফোনে কল করে পিনকোড নাম্বার চেয়ে বিভ্রান্ত করে তুলেছে। কয়েক বছর ধরে এমন কার্যক্রম চলতে থাকায় বর্তমানে এ অবস্থা চরম আকার ধারন করেছে। প্রতিদিনই কোন কোন মানুষের কাছে পিনকোড চাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তবে প্রতরকরা বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন নামে পরিচয় দিচ্ছে,এমনকি তারা একাধিক মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া পৌরশহরের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের অধিবাসী শিশির চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে মুজাহিদ পরিচয়দানকারী (মোবাঃ ০৯৬৩৮৯৩৩৯১২৭) এক ব্যাক্তি তার পিতা কালাচাঁদ চক্রবর্তীর বয়স্কভাতার পাশ বইয়ের পিন নাম্বারটি চেয়েছেন। বয়স্কভাতা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ওই প্রতারক উল্লেখ করেন। তবে শিশির চক্রবর্তী বিষয়টি বুঝতে পেরে সংশ্লিষ্ট অফিসে তিনি যোগাযোগ করবেন প্রতারক মুজাহিদকে জানিয়ে দিয়েছেন।
খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুবল চন্দ্র কর্মকার জানান,তাকে এক সপ্তাহ আগে প্রতারক চক্রের এক সদস্য মোবাইল করে তার বয়স্কভাতার পিন নাম্বারটি চেয়েছেন, তিনি প্রতিবেশীদের সাথে আলাপ করে জানতে পেরেছেন এটা এক ধরনের প্রতারনা।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামের অধিবাসী মোজাম্মেল হক জানান, তার মোবাইল নাম্বারে এক প্রতারক কল করে তার বয়স্ক ভাতা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে পিনকোড নাম্বার চেয়েছেন । তাকেও স্থানীয় সমাজসেবা অফিস থেকে হিসাবরক্ষক পরিচয় দিয়ে ফোন করেছেন। তবে তিনি একটি মোবইল ফোনের দোকানে গিয়ে বিষয়টি প্রতারনা বলে জানতে পেরেছেন।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেছে কি না জানার জন্য কলাপাড়া থানার ওসি মো.আলী আহম্মেদকে (০১৩২০১৫৫৩১১) তার সরকারী মোবাইলে কল করলে তিনি তা রিসিফ করেননি। তবে ওসি (তদন্ত) মো.মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বিষয়ে কারোর কোন অভিযোগ আমার জানা নাই।
কলাপাড়া উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো.আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতারনার বিষয়টি আমরা জেনেছি, তবে সকল মিটিংয়ে আমরা উপকারভোগীদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। এমনকি থানায় সাধারন ডায়েরী করারও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply